সময়ের পুনঃজন্ম

০০:০০
শরীরটা কেমন যেন চটচটে অনুভব করছি । চোখ মেলে তাকালাম । একটি আবছা চেহারা ভেসে উঠল ।
চারপাশে কিসের যেন ব্যস্ততা । কেন যেন মনে হচ্ছে সবাইই খুব খুশি । কেউ একজন বলল -চেহারাটা দেখ । হুবহু মায়ের মতো হয়েছে ।
০১:০০
বাবু ,অন্যদের সাথে সোজা স্কুলে চলে যাবে । রাস্তার উপর যাবেনা । ফুটপাথ ধরে হাঁটবে । অপরিচিত কেউ ডাকলে কথা বলবেনা । ব্যাগের সাইড পকেটে পানির বোতল আর একটা কেক রাখা আছে । টিফিনের সময় খেয়ে নিও । স্কুল থেকে সোজা বাসায় চলে আসবে । একলা আসবেনা । সবার সাথে থাকবে সবসময় ।
০২:০০
তোমার রেজাল্ট এতো খারাপ হয়েছে কেন ? পড়ালেখায় যদি এতোটুকুও মনোযোগ থাকতো ছেলেটার ।
যত বড় হচ্ছে তত দুষ্টামির পরিমাণ বাড়ছে । যাও , হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বস ।
০৩:০০
আজ সন্ধ্যায় ফিরতে এতো দেরি হয়েছিল কেন ? কোচিং শেষে কোথায় গিয়েছিলে?
বাবু ভাল করে পড়ালেখা কর । তোমার পড়ালেখার যে ধারা তা দিয়ে তুমি কোনোরকমে পাস্‌টাই করতে পারবে । ভাল কোন কলেজে ভর্তি হতে পারবেনা । এখনো সময় আছে ,সময়টাকে কাজে লাগাও ।
০৪:০০
এই সময়টা তোমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় । এর সঠিক ব্যবহার করবে । কোন ধরণের গ্রুপের সাথে নিজেকে জড়াবেনা । মনে রেখো ভাল থাকা অনেক সহজ । কিন্তু খারাপ হওয়ার অনেক পথ আছে । ওই পথগুলো মাড়াবেনা ।
০৫:০০
তারপর , কি ঠিক করলে তুমি । গ্রাজুয়েশন শেষে কি বাইরে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে আছে তোমার । নাকি এখানেই কিছু একটা করবে ? আমি বলি কি শুনো । আমার ইচ্ছা পড়ালেখা শেষে তুমি পারিবারিক ব্যবসাটাই দেখ। সবকিছুই তোমার জন্য গোছানো আছে ।
০৬:০০
এই শুনো , আমাকে আজ একটু বাসায় যেতে হবে । মা-বাবা বাবুকে দেখতে চাচ্ছে । তুমি অফিসে যাওয়ার পথে আমাকে একটু নামিয়ে দিয়ে যেও ।
০৭:০০
রোজ রোজ একই কথা আর ভাল লাগেনা। তোমাকে আমি কতবার বলব আমার আর এই বাসায় একটুও ভাল লাগছেনা । তুমি নতুন একটা বাসা দেখ প্লিজ্‌ । বাচ্চারা বড় হচ্ছে । তোমার কি একটুও খেয়াল নেই ?
০৮:০০
বাবা , আজ ফারিয়া আমাকে বলেছে আমি নাকি পচা । আচ্ছা বাবা তুমিই বল আমিকি সত্যিই পচা ?
আমিও ওকে পচা বলেছি ।
০৯:০০
বাবা তোমাকে না বলেছিলাম আমার কোচিংএর ফীটা মায়ের হাতে রেখে যাওয়ার জন্য । তুমি ভুলে গিয়েছিলে । আজ অবশ্যই মনে করে দিয়ে যেও ।
১০:০০
বাবা আমি এখন বড় হয়েছি । নিজের ভালমন্দ নিজেই বুঝি ।
১১:০০
না বাবা। আমি এই দেশে থাকবনা। আমার বন্ধুদের অনেকেই বাইরে চলে যাচ্ছে । এই দেশে আমার ভাল লাগেনা । আর,সবচাইতে বড় কথা এখনতো কোন সমস্যাই নাই । এখন টেলিকমিউনিকেশনের যুগ । চাইলেই প্রতিদিন কথা বলতে পারবে আমার সাথে ।
১২:০০
এখন আর কিছুই অনুভব করতে পারছিনা । আমার আশেপাশের মানুষগুলো কাঁদছে কেন বুঝতে পারছিনা । ওই শোয়ানো দেহটা কার ? পরিচিত মনে হচ্ছে ।
দেখি নতুন কোন জরায়ু খুঁজে পাই কিনা । এই আশ্রয়হীন পরিস্থিতি আর ভাল লাগছেনা ।
০০:০০

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s