পলাশীঃ ১ – Del H Khan

ফ্রেঞ্চ আর্টিলারি অফিসার মশিয়ে সিনফ্রে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলেন না!
নবাব সিরাজের বেঙল আর্মি পিছু হটছে!!
স্রেফ একটা সফল ইংলিশ ‘স্পয়েলিং এটাক’ এর কারনে জেতা একটা যুদ্ধে হার মেনে নেয়া বুঝি শুধুমাত্র এই বঙ্গজদের পক্ষেই সম্ভব!!!

অথচ আজ সকালেও ক্লাইভ ভাবেনি এই যুদ্ধ তাদের পক্ষে জেতা সম্ভব। পলাশীর প্রান্তরে নবাবের বেঙ্গল আর্মির ‘এরে অফ ফোর্স’ দেখেই ক্লাইভের গলা শুকিয়ে আসছিল।

ভাগীরথী নদীর পাড়েই একটা আমবাগান, আয়তনে প্রায় এক স্কয়ার কিলোমিটার। আমবাগানের সামনে (উঃ), ডানে (পূঃ) আর পেছনে (দঃ) পলাশীর খোলা প্রান্তর।

আমবাগানের সামনের প্রান্তে একটা পরিত্যক্ত ‘হান্টিং লজ’, তারও শ’তিনেক গজ সামনে নদীর পাড়েই একটা ইটভাটা। ইটভাটার আরো সামনে জোড়া পুকুর, একটা বড়, আরেকটা ছোট। তারো সামনে বুক সমান উচু ঢাল; ভাগীরথীর পাড় থেকে শুরু হয়ে আমবাগানের উত্তর প্রান্তের সমান্তরালে পলাশীর প্রান্তরের মাঝ দিয়ে সেই ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে চলে গেছে।

ঢালের ওপারেই বেঙল আর্মির মেইন ক্যাম্প; বোঝাই যাচ্ছে ‘মেইন ডাইরেকশন অফ এটাক’ ওটাই। কারন ঢালের সামনেই জোড়া পুকুরের দুই পাড়ে আমবাগানের দিকে তাক করে চারটা কামানের একটা ফ্রেঞ্চ ব্যাটারি বসানো।

কিন্তু বেঙ্গল আর্মির মেইন ক্যাম্প উত্তরে হলেও অন্যান্য বাহিনীগুলোর ক্যাম্প দেখা যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব থেকে শুরু করে বাগানের পূর্ব দিক পর্যন্ত; মানে যুদ্ধ শুরু হলে বেঙ্গল আর্মির ফর্মেশন আমবাগানের সামনে থেকে শুরু করে ক্রিসেন্ট প্যাটার্নে প্রায় আমবাগানের পেছন পর্যন্ত ঘিরে দাঁড়াবে।

ক্লাইভ স্বীকার করতে বাধ্য হল, পছন্দের ব্যাটেলফিল্ডে নবাবের আর্মি ট্যাক্টিক্যালি প্রায় নিখুঁতভাবে ডেপ্লয় করেছে; নবাবের ‘হায়বত জং’ (Horror in War) উপাধি সার্থক। বেঙ্গল আর্মি ফ্রেঞ্চদের বুদ্ধিতে ক্লাইভের ইংলিশ আর্মিকে ফ্রন্ট, ফ্ল্যানক আর রিয়ার থেকে একযোগে ‘থ্রি প্রঞ্জড এটাক’ করলে তো বটেই, এমনকি স্রেফ সামনে থেকে ফ্রন্টাল এটাক করলেও সেই এটাকের ওয়েট এন্ডিউর করার মত ক্ষমতা ক্লাইভের ৩৯ রেজিমেন্টের নেই। কারন ডান ফ্ল্যানকে অথবা পেছনেও নবাবের আর্মি থাকায় একমাত্র পিছু হটবার উপায় হল ভাগীরথী নদী ধরে নৌকায় চেপে ভাটির পথ ধরা।

এতসব ডিজেডভান্টেজের মাঝেও ক্লাইভের এডভান্টেজ দুটো। এক, ব্যাটেলফিল্ডে তার তুরুপের তাস, নবাবের সেনাপ্রধান মীর জাফর। দুই, তরুন নবাব ক্লাইভের ইংলিশ আর্মি আর তাদের ট্যাক্টক্স সম্পর্কে যেমন অজ্ঞ, তেমনি তার জেনারেলদের সিনসিনিয়ারিটি নিয়েও সমানভাবে কনফিউজড!

14666327_10209358716436879_4986234355482384736_n

স্রেফ মীর জাফরের ওপর ষোলআনা ভরসা করে কোন ‘পিচড ব্যাটেল’ এ এনগেজড হবার মত বেকুব ক্লাইভ নন; অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, বিশ্বাসঘাতক কে কখনই বিশ্বাস করতে নেই। অতএব, ক্লাইভ শুরুতেই ভাগীরথীর তীরে ইংলিশদের নৌযানগুলো রেডি রাখবার নির্দেশ দিলেন, যেন চাইলেই অকারন ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে নিরাপদে পিছু হঠতে পারেন। তারপর মাঝে ইংলিশ আর্মি আর টোপাসিদের রেখে দুই ফ্ল্যানকে ভারতীয় কালা সিপাহীদের দাড় করিয়ে আমবাগানের সামনে ব্যাটেল ফর্মেশনে দাড়ানোর নির্দেশ দিলেন।

সেই ১৬০০ সাল থেকে ইংলিশরা এই ইন্ডিয়ানদের স্টাডি করে আসছে। যারা মুঘোলদের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে কুন্ঠা করেনি, তারা যে একসময় ইংলিশদের মেনে নিতে দ্বিধা করবে না, সেকথা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু কলোনাইজেশনের এই প্রসেসটা ঠিক কবে শুরু হবে তা বলা মুশকিল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ক্লাইভ ভাবল, হয়ত এই পলাশীর প্রান্তর থেকেই হবে এর শুরু, কে জানে?

ক্লাইভের ভাবনার জাল ছিন্ন করে দিয়ে নবাবের নির্দেশ পেয়ে মসিয়ে সিনফ্রের ফ্রেঞ্চ ক্যানন ব্যাটারি সকাল ছয়টায় গান ফায়ার শুরু করল। প্রথম গোলার আঘাতে একজন ইংলিশ গানার মৃত্যুমুখে ঢলে পড়ল, আরেকজন হল গুরুতর আহত।

ক্লাইভ ফ্রেঞ্চ এবং নবাব আর্টিলারির হেভিয়ার ক্যালিবারের ক্যাননের বিপরীতে তার লোয়ার ক্যালিবারের ইংলিশ ক্যাননের অসহায়ত্ব টের পেয়ে প্রমাদ গুনল। গাঁজাখোর ক্লাইভের গতরাতের গাজার হ্যাংওভার মূহুর্তেই উবে গেল। এমনতো হবার কথা ছিলনা!

মন থেকে মীর জাফরকে শাপ শাপান্ত করতে শুরু করল ক্লাইভ। (চলবে… )

বিঃদ্রঃ এটি লিখেছেন Del. H. Khan ভাইয়া। মূল লেখাটি পাবেন এখানে । ভাল লাগলো লেখাটা তাই পরে খুঁজে পেতে সুবিধা হওয়ার জন্য তুলে রাখলাম।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s