ইদানীং!

প্রকৌশলের শেষ সেমিস্টারের ফাইনাল এক্সাম চলছে। দুটো পরীক্ষা শেষ হল। মোটামোটি ভালই হয়েছে পরীক্ষা দুটি।পরীক্ষা শেষে আবার থিসিস আর প্রেজেন্টেশনের দৌড়াদৌড়ি। তার আর কিছুদিন পরেই হল ছাড়ার নোটিশ পেয়ে যাব। চায়ের দোকানের আড্ডা, রাতবিরাতে ঘুরাঘুরি, কেএনআই হলের ছাদের গানের আসর সব শেষ হয়ে যাবে। ইদানীং যা ই করিনা কেন মাথায় খালি এটাই ঘুরে, এইতো আর কদিন পরেই সব শেষ। শুরু হবে বেকার জীবন… এতোদিন শুনে এসেছি এই জীবনটার কথা। এখন স্বাদ পাওয়ার সময় চলে এসেছে… ভাল লাগেনা আর।

Our RAG DAY

Four years of journey is about to finish. 😦
Gonna be a Mechanical Engineer after a few days. Donnow what is waiting for me but I enjoyed my university life.
I will miss my friends badly because they are my source of inspiration as well as I will miss you
Dhaka University of Engineering & Technology (DUET).

4

00

rag cover 2

আমার তারছেঁড়া হওয়া

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম কিছুদিন ফোনটাকে অফ্‌ রেখে, ফেসবুক, এই সেই এসব বাদ দিয়ে থাকা যায় কিনা! খুব বেশি নির্ভর হয়ে পড়েছি এগুলোর উপর আমরা। বিশেষ করে ফেসবুক ছাড়া কিছুতো আমরা অনেকে ভাবতেই পারিনা। আমিও এ দলেরই।
শখের বশে কার্টুন আঁকি মাঝেমাঝে। তো দেখা যায় কি, একটা কিছু আঁকার পর তা ফেসবুকে আর এখানে ওখানে আপলোড করার পর ওটার ফিডব্যাক নিতে-দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একটা ছবি/লেখা পোস্ট করলাম আর ওটার পেছনেই পড়ে থাকলাম। অথবা বন্ধুদের পোস্ট দেখতে দেখতে হোমপেজে স্ক্রলিং শেষ করার পরও নীল পর্দাটার দিকে চেয়ে আছি তো চেয়েই আছি।
আগে প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বই পড়তাম। হুমায়ূন আহমেদ বা সমরেশের বই পেলে শেষ নাহওয়া পর্যন্ত ছাড়তামনা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বাস ক্যাম্পাসে এলেই হানা দিতাম নতুন বইয়ের খোঁজে। এখন আর বই পড়া হয়না। এক ফেসবইয়েই সময় পার!
কিছুদিন ধরে খেয়াল করলাম আমি যে কার্টুনগুলো আঁকি সেগুলোতে ঠিক প্রাণটা আসছেনা। আর এক একটা কার্টুন আঁকতে সময় খুব বেশি লাগছে যা স্বাভাবিক নয়। আবিস্কার করলাম, আমার মূল শিক্ষাতেই গণ্ডগোল। এরপর হতাশ আমি আমার কার্টুনিং এর গুরু মেহেদী ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলাম। ওনার বুদ্ধি ধরে আবার গোঁড়া থেকে শুরু করলাম। ফর্ম, এক্সপ্রেশন, সিমপ্লি আঁকতে শেখা এসব নতুন করে ধরলাম এবং ফলাফল দেখে আমি অবাক। বাহ্‌ বেশ ভাল তো। প্রকৌশলের পড়ালেখার পাশাপাশি আঁকাআঁকি প্র্যাকটিস করা যখন অসম্ভব হয়ে উঠলো তখন ভেবে বের করলাম সময় কিভাবে বের করা যায়। ফেসবুকিংটা বাদ দিলাম কিছুদিনের জন্য। প্রথম প্রথম দুএকদিন মন উশখুশ করছিলো কিন্তু চার-পাঁচদিন পার হওয়ার পর দেখলাম খুব একটা খারাপ কাটছেনা দিনগুলো। গত কদিন ধরে ফোনটাকে অফ্‌ রাখা শুরু করলাম দিনের অনেকটা সময়। আরো ভাল লাগতে শুরু করলো। বাহ্‌ দারুন লাইফ। ঝামেলাবিহীন। এরপর কদিন আঁকাআঁকি ছেড়ে দিলাম। ঝিম ধরে বসে রইলাম সময়টুকু। কিছু কাজ ছিল এদিকওদিকে। ওগুলো শেষ করলাম। আগামী একসপ্তাহ ক্লাস বন্ধ। একটা ওয়েবসাইটে গিয়ে কিছু বইয়ের অর্ডার করে দিলাম। আগামী কিছুদিন বই পড়বো, ঘুমাবো আর আঁকবো ইচ্ছেমতো আর ফোন অফ্‌ থাকবে অবশ্যই।
যে সময়টুকু অনলাইনে নষ্ট করা হয় তা দেব আঁকাআঁকি শেখার পেছনে আর নিজের মতো করে কাটাতে। দুদিন পরেই পহেলা বৈশাখ। এবারের নববর্ষের দিনটা ঘুমিয়েই পার করার ইচ্ছা আছে। LIFE IS BEAUTIFUL.

আমি, সে আর সিগারেট

– তুমি সিগারেট ছাড়বা?
– সিগারেট ছাড়ব মানে?
– ভেতরে তো কিস্যু রাখতেসোনা। সব ঝাঁজরা করে ফেলতেসো। বিয়ের পর তোমার সিগারেট খাওয়া ছুটাবো আমি।
– তখন তো তুমি নিজেই আমারে বিড়ি আনি খাওয়াবা।
– কি বললা????? আরেকবার বল দেখি। কত্তবড় সাহস।
– আরে তুমি বুজতে ভুল করসো। আমি বলসি, বিয়ের পর তুমি আমাকে বিরিয়ানি খাওয়াবা।
– আমারে বুঝাইলা আর আমি বুঝলাম তাইনা? আমারে কচি খুকি পাইসো???
– তোমার নতুন প্রোফাইল পিকটা জোশ
– সত্যি?
– হুম।
-…
-……
সিগারেট ইস্যু শেষ 😀 

কান্নামাখা দুষ্টুমি

– আমি তোমাকে ভালবাসি!!
– এই তোর হঠাৎ কি হইলো আবার ?
আমার মুখে এই ধরনের কথা শুনে খেঁকিয়ে উঠলো মিতু।
– সত্যি বলছি । আমি অনেক ভেবেছি এই ব্যাপারে ।
– সত্যি করে বলতো রোমেল, তুই কি কিছু টেনে এসেছিস ? 
– সত্যিই তো বলছি । আমি তোমাকে ভালবাসি মিতু ।
– কি ব্যাপার ? হঠাৎ করে তুই থেকে তুমিতে নেমে এলি ক্যান তুই ? এইসব দুষ্টামির মানে কি ?
– সত্যি বলছি আমি তোমাকে ভালবাসি ।
– ধুর সাতসকালে কিসব প্যানপ্যান শুরু করলি তুই ? আমার সামনে থেকে সর এখন। নেশা কেটে গেলে তুই আমার সামনে আসিস । ভাল্লাগতেসেনা এখন এইসব। এম্নিতে আজ সকালে আম্মুর কাছ থেকে বকা খাইসি। যাই, আমার ক্লাস আছে । 

বিরক্ত মিতু উল্কার বেগে চলে যায়। আমি তার চলে যাওয়া দেখতে থাকি। 
কেন যেন বুকের ভেতর কিছু কান্না দলা পাকিয়ে উঠছে । এতোদিন এই ব্যাপারটার কথা এখানেওখানে পড়েছি কিন্তু আজই প্রথম অনুভব করছি এই ব্যাপারটা ।

যাই হোক, দিন শেষে আপনি নিজেই নিজের এন্টারটেইনার !!!!!

১) শুনছস, ঐ ছেলেটার CGPA নাকি 3.98……সে নাকি সারাদিনই রুমে বইসা বইসা পড়ালেখা করে । ক্যামনেরে সম্ভব ভাই এইগুলা ? আসলে ছেলেগুলা মানুষনা … এলিয়েন…
২) কিরে তোর CGPA এতো কম ক্যা ? এত্ত কম সিজিপিএ নিয়া ইঞ্জিনিয়ার হইলেতো তুই তো চাকরিও পাবিনা !
৩) – ওয়াও, ভাইয়া আপনি এতো ভালো ছবি আঁকতে পারেন? ভাইয়া আপনি কি ফাইন আর্টসে পড়েন ?
– নাহ, পড়ছি প্রকৌশলে/ মেডিকেলে
৪) – আরে আপনিতো দেখি হুলুস্থুল কম্পিউটার প্রোগ্রামার । নিশ্চয় CSE এর স্টুডেন্ট? তো কোথায় পড়ছেন ?
– পড়ছি অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ে । সাবজেক্ট সাইকোলজি
৫) – আপনার লেখালেখির হাত তো দেখি খুবই ভালো । চালিয়ে যান … আচ্ছা এসব করতে গিয়ে আপনার পড়ালেখার ক্ষতি হয়না ? কিভাবে ম্যানেজ করেন ?
– না সমস্যা হয়না । আমার রেজাল্টও মোটামোটি ভালো ।
৬) – কম্পিউটার তো দেখি আপনার হাতের খেলনা । কোন ডিপার্টমেন্টে আছেন আপনি ?
– মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে
৭) – কি। কি বললেন আপনি ? আপনার ইচ্ছা আছে নিউজ প্রেজেন্টেটর হওয়ার ? কিভাবে সম্ভব ? আপনিতো পড়ছেন প্রকৌশল নিয়ে……………

– তাতে কি ? প্রকৌশলীও হব আবার নিউজ প্রেজেন্টেটরও হব… দুটাই সমানে চালাব……………
৮)…………………
৯)………………………

১০)……………………………
আপনি কোথায় পড়ছেন, কি বিষয় নিয়ে পড়ছেন সেটা বড় কথা নয় । আপনি একটি সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশুনা করছেন , তার মানে এই নয় যে আপনি ভিন্নধর্মী একটি বিষয় চর্চা করতে পারবেন না। আপনাকে তাই করতে হবে যা আপনার ভেতরে আছে । সেটা হতে পারে লেখালেখি, আঁকাআঁকি, প্রোগ্রামিং, ফটোগ্রাফি, ফিল্মমেকিং,……………ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ । হয়তোবা আপনার ইচ্ছে ছিল ফাইন আর্টসে পড়ার কিন্তু পরিবারের চাপে পড়ে পড়ছেন অন্য কোথাও । অসুবিধা নাই, ঐ বিষয়টিও পড়ুন আর আপনার আগ্রহ যে বিষয়ে সেটিরও চর্চা করতে থাকুন। (উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশের অনেক টপ লেভেলের কার্টুনিস্ট বুয়েটের) । এখন যদি প্রশ্ন করেন, এতো কিছুতে সময় দিতে গিয়ে পড়ালেখার কি হবে ? জবাব – সেটাও সমানেই চালাবেন এবং চেষ্টা থাকলে অনেককিছুই সম্ভব । হয়তোবা আউটস্ট্যান্ডিং একটা রেজাল্ট পাবেননা । কিন্তু আপনি যা চাইছেন তার জন্য ঐ এতো ভালো রেজাল্টের দরকার হয়না বস্‌। আপনি তো আর আপনার ডিপার্টমেন্টের ভবিষ্যৎ লেকচারার হতে চাইছেননা …………

যে ছেলেটার সিজিপিএ অনেক বেশি তার মনে হয়তো ইচ্ছা আছে গ্র্যাজুয়েশন শেষে সে তার ভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে জয়েন করবে। এখন আপনি যদি তার সাথে নিজেকে তুলনা করতে যান তাহলেই ধরাটা খাবেন বস্‌। আপনি যদি তার মতো করে সারারাত সারাদিন পড়ালেখা করতে যান তাহলে হয়তোবা দেখবেন আপনার রেজাল্ট যা তার চেয়েও খারাপ হয়ে বসে আছে । কারণ আপনি এতে অভ্যস্ত নন। হয়তোবা দেখা যাবে পড়ালেখায় আপনি তার ধারেকাছেও নাই কিন্তু চাকরিক্ষেত্রে আপনি তার চাইতেও দ্রুত উন্নতি করছেন অনেক খারাপ একটা রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও । কারণ আপনার ম্যানেজমেন্ট ক্ষমতা ঐ ট্যালেন্ট ছেলের চাইতেও অনেক বেশি……… কথা হচ্ছে সবার দ্বারা সবকিছু হয়নারে ভাই ।

পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের মতে, দিনশেষে আপনি নিজেই নিজের এন্টারটেইনার… হাহুতাশ না করে আপনার ভেতরটা কি বলছে তাই শুনুন । নিজের আত্মবিশ্বাসটাই বড় কথা ।

পুরনো রুটিন

roommate , friend , classmate …… যাদের বর্তমানে Active একটা প্রেম আছে, সবার একই অবস্থা । সারাদিন কানের পাশে ফোন একটা ধরে রাখে । আমরা যারা প্রেমহীন , তারা খালি শুনি – কোথায়?, খাইসো? হুম, বল, হুম,তুমি লাইন কাটো, হুম, নাহ , পারবনা , তোমার যা ইচ্ছে তাই কর , আমি জানিনা , lOve u, এই শুনো, miss u, আজকে না কি হইসে জানো……, কি হইসে কল্‌ রিসিভ কর নাই ক্যান?, রাত্রে ফোন দিওনা, ummmah ………………………………………………………………blah blah blah
প্রতিদিন একই কথা , একই শব্দ , একই প্রেম, একই মানুষ……
কিভাবে দিনের পর দিন তারা এই বিরক্তিকর রুটিন মেনে চলে সেটা বুঝিনা ,এই কথাটা ভাবতে গিয়ে মনে পড়ল – এক সময় আমার ও এই রকম একটা রুটিন ছিল ।