গুলঃ০৩

বিদেশে যাওয়ার ব্যাপার নিয়ে সন্ধ্যায় একখান জরুরী মীটিং ছিল। মীটিং শেষে রুমে এসে কালকের ক্লাস টেস্টের সিলাবাসে চোখ বুলাতেই ঘুম পেয়ে গেল। যেই না চোখ বুজেছি সেলফোনটা ক্যাওম্যাও করে বেসুরো সুরে বেজে উঠলো।  স্ক্রিনে SHERLOCK calling……..জি, টাশকি খাওয়ার কিছুই নাই। আমি শারলক হোমসের কথাই বলছি।

আমি – কি হইছে। অসময়ে ফোন দিলা যে। খেঁকিয়ে উঠলাম আমি।

হোমস – আরে অসময়ের কি দেখলা। আমার এখানে তো এখন দিন।  উল্টা খেঁচকায় উঠলো শারলক।

আমি – কি হইসে কও।

হোমস – আরে আর কইয়োনা। একটা কেসে আটকায় গেসি। একটু বুদ্ধিশুদ্ধি দেও।

এরপর অনেকক্ষণ বাতচিত করার পর একটা সমাধান দিলাম আমি।

সমাধান পেয়েই বেটা ফোনের লাইনটা কেটে দিল। মেজাজ খারাপ হইয়া গেল আমার। এতটুকু কৃতজ্ঞতাবোধও নাই !!!

………………

রাতের খাবার খেয়ে এসে যেই না রেফ্রিজারেশনের চোথাটা টেনে নিয়ে পড়তে বসছি এমন সময় শারলকের ফোন। গালি দেওয়ার নিয়ত কইরা যেই কলটা রিসিভ করলাম

শারলক বইলা উঠলো THANK YOU বন্ধু। কেস্‌ সলভ্‌ড, মামলা ডিসমিস। তুমি নেক্সট টাইম ইংল্যান্ডে আসলে বেকার ষ্ট্রীটে চইলা আইসো। জানি তুমি ব্যস্ত মানুষ, এরপরও বন্ধুর দাওয়াতটা রাখার চেষ্টা করবা।

আইচ্ছা ঠিকাসে কইয়া লাইন কাইটা দিলাম। CASE CLOSED B|

Advertisements

গুলঃ ০২

সবাই যখন বসন্ত বরনে ব্যস্ত তখনো আমি আমার হলের সিঙ্গেল খাটে চেগাইয়া ঘুমাইতেসি । অনেকদিন পর পাওয়া আয়েশি ঘুমটা ভাঙল রবিবাবুর ডাকে।

“বালক এখনো শুইয়া আছো কেন? উঠো, দেখো এই নতুন প্রকৃতি।

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।

তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে

কোরো না বিড়ম্বিত তারে।

আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো,

আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো,

এই সংগীত-মুখরিত গগনে

……………………………

……………………………

অসময়ে ঘুম ভাঙ্গায় মেজাজ সপ্তমে উঠার পর অষ্টম, নবম, দশমের ঘরও পার হইয়া গেলো। দেখলাম বিছানার পাশের চেয়ারে গুরুদেব বইসা বইসা আমার জি-পেনটা হাতে নিয়া ঘুরাইয়া ফিরাইয়া দেখতাসেন। খেঁচকাইয়া উঠলাম , গুরুদেব আপনে কি আর টাইম পান নাই? শুক্রবারের ঘুমটা দিলেনতো মাটি কইরা… কিইইইইইইইইইইইইইযে করেননা মাঝেমাঝে…  -_-

আমার ঝাড়ি শুনে রবিবাবু একটু কাঁচুমাচু হইয়া গেলেন। বলিলেন, দেখো কি সুন্দর প্রকৃতি…

আমি কইলাম, কই আমিতো আমার উপ্রের মশারি ছাড়া আর কিছুই দেখতাসিনা। -_-

মন খারাপ কইরা গুরুদেব বাতাসে মিলাইয়া গেলেন। আমি আবার ঘুম দেওয়ার চেষ্টা করিলাম। কিন্তু বজ্জাত ঘুম আর আসেনা।

কি আর করার আছে তাই ফেবুতে উঁকি দিলাম আর বুঝতে পারলাম আজ পহেলা ফাল্গুন। গুরুদেবকে বকাবকি করার কারনে মন কিঞ্চিৎ পরিমাণ খারাপ হইয়া গেল। নেক্সট টাইম দেখা দিলে মাফ চাইয়া নিতে হবে। অবশ্য যে পরিমানে খেঁচকাইয়া উঠসিলাম তাতে সন্দেহ আছে নেক্সট টাইম কবে দেখা দেন।

যাই হোক, পহেলা ফাগুনের শুভেচ্ছা রইলো সবার জন্য।  🙂

বিঃদ্রঃ গুরুদেবের সাথে আমার মাঝেমাঝে দেখা হয়। তিনি অতীব প্রকৃতির নরম দিলের মানুষ।

গুলঃ ০১

এই নিয়ে আজ দুবার ঘটল এই ঘটনাটা। তৃতীয় ঘটনাতো আরো অদ্ভুত। সেটার কথায় পরে আসছি। দুপুর বারোটায় ঘুম ভাঙার পর হাতে টুথব্রাশ নিয়ে হলের বারান্দায় আয়েশি ভঙ্গিতে দাঁড়ালাম । হঠাৎ শুনলাম কেউ একজন বলল “তুমি এতক্ষণে ঘুম থেকে উঠসো ?? তোমাকে কেউ কিছু বলেনা?”  আশেপাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নাই। অস্থির রকমের টাশকি খেয়ে গেলাম। উঁহু কেউ নাই বললে ভুল হবে। কেএনআই হলের বাসিন্দা কানা বিড়ালটা রুমের সামনে বসে বসে ঠ্যাং চাটছে আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে  বিড়ালটা আবার কথা বলে উঠলো “তুমি তো আচ্ছা মানুষ হে ভাই!” আমি তাব্দা মেরে গেলাম। ভাবলাম আরে ধুর, ঘুম মনে হয় ভাল হয়নাই। একই ঘটনা ঘটল রাত্রে। খেয়েদেয়ে এসে টয়লেটে গেলাম। হঠাৎ দেখি টয়লেটের ভেতর  মিনমিন করে কেউ একজন কথা বলে উঠলো, “ভাই একটু দেইখা শুইনা কাজ করলে হয়না?” এইবার হজম করতে কষ্ট হলনা। আশেপাশে উপর-নিচে তাকাতেই বক্তাকে পেয়ে গেলাম। একটা তেলাপোকা কমোডের ভেতর বসে আছে।তৃতীয় ঘটনা ঘটল কিছুক্ষন আগেই। উপরোক্ত ঘটনাগুলো এসে রুমমেটদের বলছিলাম। এক বন্ধু খেঁচকাই উঠলো “গুল মারার আর জায়গা পাসনা?”
পর মুহূর্তেই কোথা হইতে কি হইয়া গেল। নিজেকে রাতারগুলে আবিস্কার করলাম ।