শর্টস্টোরি

ছেলেটি যখন মেয়েটির নরম ঠোঁটের কথা ভাবছিলো মেয়েটি তখন সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে গাঙচিলের ডাক শুনছিল।
“ভাইজান খাইতে যাইবেন না?” সেল্‌মেটের ডাক শুনে হুঁশ ফিরল ছেলেটির। সে এখন কারাগারে । মুক্তির দিন গুনছে!

Advertisements

তার সাথে অনলাইনে পরিচয়, এরপর প্রথম দেখার মুহূর্তটা –
ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বসে বসে তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম আর বাদাম খাচ্ছিলাম। প্রায় দেড়ঘণ্টা দেরি করে আসলো সে। এই প্রথম তাকে সামনাসামনি দেখে তাড়াতাড়ি সেলফোনটা বের করলাম । একটা নাম্বার ডায়াল করতে যাচ্ছিলাম, এমন সময় তার ঝাড়ি – “কাকে ফোন দিচ্ছ???”
আমি – দমকলকে খবর দিচ্ছি, নাহয় যেকোন সময়ে তোমার রূপের আগুনে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে । :p

একটি অল্পদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী

দৃশ্যপটঃ০১
রিয়াদ, যুবরাজ, রানা, আসিফ সহ মেসের আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে বিছানার উপর পেপার বিছিয়ে চানাচুর মুড়ি খাচ্ছিলাম। পাশের সুজয়দের রুম থেকে হিন্দি সিনেমার ধুমধাড়াক্কা আইটেম গানের সাউন্ড ভেসে আসছে । গানের কথা বুঝা যাচ্ছেনা । তবে কোন এক মেয়ে হেঁড়েগলায় নাগিন নাগিন বলে চেঁচাচ্ছে । এতোটুকুই বুঝা যাচ্ছে ।

দৃশ্যপটঃ০২
বলা নেই কওয়া নেই , হঠাৎ মিলি এসে উপস্থিত আমার রুমে । এতক্ষণ মুড়ি খাচ্ছিলাম । মিলিকে দেখে আমরা মুড়ির সাথে সাথে ভ্যাবাচ্যাকাও খেয়ে গেলাম । স্যরি মিলিকে দেখে নয়, ভ্যাবাচ্যাকাটা খেলাম কারণ আমাদের কেউই ভব্যসভ্য পোশাকে নেই । গরমকাল তাই কেউ লুঙ্গি, কেউ থ্রি কোয়ার্টার নামক বাইট্টা প্যান্ট আর কেউ স্যান্ডো গেঞ্জি আবার কেউ খালি গায়ে ছিলাম ।
কোনরকমে একটা ময়লা টিশার্ট মাথা দিয়ে গলিয়ে নিয়ে ওকে দেঁতোহাসি উপহার দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম – কাহিনী কি ? হঠাৎ বিনা নোটিশে সরাসরি আমার মেসে চলে আসছো কেন ?

কাহিনী কিছু নয়, আজ আমাদের বিয়ে । মিলির তৎক্ষণাৎ জবাব ।

দৃশ্যপটঃ০৩
এরপর কোথা হইতে কি হইয়া গেল, দেখলাম আমি আর মিলি পাশাপাশি
কাজী অফিসে বসে আছি । সাথে আমার মেসের বন্ধুরা । কাজী সাহেব আমাদের দিকে দুঃখভারাক্রান্ত মনে তাকিয়ে আছেন । কারণ ওনাকে খুব কম ফী দিয়েই আমরা বিয়েটা সেরে ফেলেছি ।

দৃশ্যপটঃ০৪
রিকশায় । মিলি তার ওড়নাটাকে ঘোমটা বানিয়ে মাথায় দিয়ে কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । রিকশা চলছে তো চলছেই……
আমার চোখেমুখে হাসি, মনেমনে চিন্তা – মাসের শেষ । পকেটে মাত্র আটটাকা আছে । রিকশা ভাড়াটা কি মিলির কাছ থেকে চেয়ে নেব ?

একটি ব্রেকআপ এবং চুমুর গল্প

অনেকদিন ধরে ওর সাথে কথা হচ্ছিলনা। হঠাৎ করেই আমার সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল এলিজা। আজ সকালে হঠাৎ ওর ফোন – “এই তুমি আজ বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যেই টিএসসির মোড়ে আসবা। অন্যান্য দিনের মতো এক মিনিটও দেরি করবানা। বুঝসো?”
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই ফোনের লাইন কেটে গেল।
আজ আর দেরি করলামনা । ঠিক সময়েই হাজির হলাম টিএসসির মোড়ে।
ঝাড়া দেড়ঘণ্টা আমাকে বসিয়ে রেখে এলো ও। হাতে মিডিয়াম সাইজের একটা শপিং ব্যাগ । ঝড়ের মতো এসেই ব্যাগটি আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল – এই নাও তোমার দেওয়া সব গিফট্‌। টেডি বিয়ার, কফি মগ, চুলের ক্লিপ, কানের দুল সহ গত দুবছরে তোমার দেওয়া হাবিজাবি সব আছে। তোমার পরবর্তী প্রেমিকাকে দিয়ে দিও । টাকা বেঁচে যাবে তোমার। তোমার মতো উলুম্বুসের সাথে আমার আর সম্পর্ক রাখা সম্ভব না । এই বলে যেই চলে যাওয়ার জন্য ঘুরল ও, পেছন থেকে জাপটে ধরলাম তাকে । বুকে টেনে নিয়ে ঐ জনারণ্যের মাঝেই তার ভেজা ঠোঁটে সময় নিয়ে গাঢ় একটি চুমু খেলাম। ফিসফিস করে তার কানের কাছে বললাম – গত দুবছরে তো কিছু শুকনো চুমু ছাড়া আর কিছুই দাও নাই। সময়ের অভাবে সবগুলো ফেরত দিতে পারলামনা। একটাতেই সব ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করলাম। তোমার যদি সময় হয় তবে একদিন এসে সবগুলোই নিয়ে যেও

রুশনীর গল্প

রুশনীর চারপাশটা আজ একটু অন্যরকম ভাল। আচ্ছা, সেদিনও কি আজকের মত আকাশে এরকম মেঘের বাড়াবাড়ি ছিল? তবে হ্যাঁ, সেদিন রুশনীর শরীর জেগে উঠেছিল । তাসিন এর খালি এপার্টমেন্টে সেদিন সে সহজেই ফারাবির কাছে ধরা দিয়েছিল। লোমশ বুকে জড়িয়ে ধরে সেদিন তাকে অনেক কথাই বলেছিল ফারাবি। রুশনীর মনে অনেকদিন ছিল সেই অন্যরকম অনুভূতিটা । এখনও মনে হয় তার কিছু ছিটেফোঁটা পাওয়া যাবে ।
সেই ছিটেফোঁটাটুকু আজ থেকে আর থাকবেনা ভাবতেই মনের ভেতর হালকা একটা খুশির আমেজ চলে আসে রুশনীর । সাততলা বিল্ডিঙের ছাদ থেকে লাফ দিতে গিয়ে প্রথম দিকে তার একটু ভয়ই লেগেছিল। না জানি কি হয় । যদি মারা না গিয়ে তাকে পঙ্গু হয়ে পড়ে থাকতে হয়, তবে ছোট বোন তিতলির খোঁচার চোটে বাসায় আর থাকতে হবেনা তাকে। অবশ্য, সেটা আর হচ্ছেনা। তাকে আর খোঁচাতে পারবেনা ভেবে তিতলির মুখের অবস্থা কেমন হবে তা কল্পনা করে এই অবস্থায়ও প্রচণ্ড হাসি পেল রুশনীর।

হঠাৎ মাথায় একটা প্রশ্ন আসল তার। রুশনীর কথা বাদ থাক, অন্তত ফারাবির কি নিজের কোন লাজলজ্জা নেই ? রুশনী তো মেয়ে, তার নগ্নদেহের ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে ফারাবির কোন অসুবিধা নেই । কিন্তু এতে তো ফারাবির নগ্ন দেহও সবাই দেখছে । ছেলেদের মনে হয় লাজলজ্জা নেই । ছিঃ

ইশ, উত্তরটা আর জানা হবেনা। তবে তার অনেকদিনের একটি ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে আজ। সেই ছোটবেলা থেকেই তার অনেক সাধ ছিল পাখি হবার । আকাশে উড়ার প্রচণ্ড বাসনা ছিল তার। আজ বাতাসে ভাসতে ভাসতে সে মনে মনে খুশি হল । অনেকের তো অনেক ইচ্ছাই পূরণ হয়না । কিন্তু তার অসম্ভব একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছে সে আজ।

থাক, আর মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই । নিজেকে সংযত করল সে। তার এখন চিৎকার করে গান গাইতে ইচ্ছে করছে। “ক্রিড” ব্যান্ডের “ওয়ান লাস্ট ব্রিথ” গানটা তিতলি খুব শুনে । ওয়েস্টার্ন ব্যান্ডের ওইসব গান নামের চিল্লাচিল্লি কোনদিন ভাল লাগেনি রুশনীর। আজ কেন যেন তারও গাইতে ইচ্ছে হচ্ছে – Hold me now, I’m six feet from the edge & I’m thinking, may be six feet ain’t so far down.
রুশনী বাতাসের বাধা পেরোতে পেরোতে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে – মৃত্যুর স্বাদ কেমন ?

সময়ের পুনঃজন্ম

০০:০০
শরীরটা কেমন যেন চটচটে অনুভব করছি । চোখ মেলে তাকালাম । একটি আবছা চেহারা ভেসে উঠল ।
চারপাশে কিসের যেন ব্যস্ততা । কেন যেন মনে হচ্ছে সবাইই খুব খুশি । কেউ একজন বলল -চেহারাটা দেখ । হুবহু মায়ের মতো হয়েছে ।
০১:০০
বাবু ,অন্যদের সাথে সোজা স্কুলে চলে যাবে । রাস্তার উপর যাবেনা । ফুটপাথ ধরে হাঁটবে । অপরিচিত কেউ ডাকলে কথা বলবেনা । ব্যাগের সাইড পকেটে পানির বোতল আর একটা কেক রাখা আছে । টিফিনের সময় খেয়ে নিও । স্কুল থেকে সোজা বাসায় চলে আসবে । একলা আসবেনা । সবার সাথে থাকবে সবসময় ।
০২:০০
তোমার রেজাল্ট এতো খারাপ হয়েছে কেন ? পড়ালেখায় যদি এতোটুকুও মনোযোগ থাকতো ছেলেটার ।
যত বড় হচ্ছে তত দুষ্টামির পরিমাণ বাড়ছে । যাও , হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বস ।
০৩:০০
আজ সন্ধ্যায় ফিরতে এতো দেরি হয়েছিল কেন ? কোচিং শেষে কোথায় গিয়েছিলে?
বাবু ভাল করে পড়ালেখা কর । তোমার পড়ালেখার যে ধারা তা দিয়ে তুমি কোনোরকমে পাস্‌টাই করতে পারবে । ভাল কোন কলেজে ভর্তি হতে পারবেনা । এখনো সময় আছে ,সময়টাকে কাজে লাগাও ।
০৪:০০
এই সময়টা তোমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় । এর সঠিক ব্যবহার করবে । কোন ধরণের গ্রুপের সাথে নিজেকে জড়াবেনা । মনে রেখো ভাল থাকা অনেক সহজ । কিন্তু খারাপ হওয়ার অনেক পথ আছে । ওই পথগুলো মাড়াবেনা ।
০৫:০০
তারপর , কি ঠিক করলে তুমি । গ্রাজুয়েশন শেষে কি বাইরে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে আছে তোমার । নাকি এখানেই কিছু একটা করবে ? আমি বলি কি শুনো । আমার ইচ্ছা পড়ালেখা শেষে তুমি পারিবারিক ব্যবসাটাই দেখ। সবকিছুই তোমার জন্য গোছানো আছে ।
০৬:০০
এই শুনো , আমাকে আজ একটু বাসায় যেতে হবে । মা-বাবা বাবুকে দেখতে চাচ্ছে । তুমি অফিসে যাওয়ার পথে আমাকে একটু নামিয়ে দিয়ে যেও ।
০৭:০০
রোজ রোজ একই কথা আর ভাল লাগেনা। তোমাকে আমি কতবার বলব আমার আর এই বাসায় একটুও ভাল লাগছেনা । তুমি নতুন একটা বাসা দেখ প্লিজ্‌ । বাচ্চারা বড় হচ্ছে । তোমার কি একটুও খেয়াল নেই ?
০৮:০০
বাবা , আজ ফারিয়া আমাকে বলেছে আমি নাকি পচা । আচ্ছা বাবা তুমিই বল আমিকি সত্যিই পচা ?
আমিও ওকে পচা বলেছি ।
০৯:০০
বাবা তোমাকে না বলেছিলাম আমার কোচিংএর ফীটা মায়ের হাতে রেখে যাওয়ার জন্য । তুমি ভুলে গিয়েছিলে । আজ অবশ্যই মনে করে দিয়ে যেও ।
১০:০০
বাবা আমি এখন বড় হয়েছি । নিজের ভালমন্দ নিজেই বুঝি ।
১১:০০
না বাবা। আমি এই দেশে থাকবনা। আমার বন্ধুদের অনেকেই বাইরে চলে যাচ্ছে । এই দেশে আমার ভাল লাগেনা । আর,সবচাইতে বড় কথা এখনতো কোন সমস্যাই নাই । এখন টেলিকমিউনিকেশনের যুগ । চাইলেই প্রতিদিন কথা বলতে পারবে আমার সাথে ।
১২:০০
এখন আর কিছুই অনুভব করতে পারছিনা । আমার আশেপাশের মানুষগুলো কাঁদছে কেন বুঝতে পারছিনা । ওই শোয়ানো দেহটা কার ? পরিচিত মনে হচ্ছে ।
দেখি নতুন কোন জরায়ু খুঁজে পাই কিনা । এই আশ্রয়হীন পরিস্থিতি আর ভাল লাগছেনা ।
০০:০০

অদিতির মন খারাপ

দ্যাখতো এই নাম্বারটা তোরা কেউ চিনিস কিনা । একদিন আড্ডার ফাঁকে অদিতি বলল আমাদের । দেখলাম নাম্বারটা । উঁহু চিনিনা । অপরিচিত নাম্বার ।
কেন, কি সমস্যা ? নন্দিতার জিজ্ঞাসা ।
আরে ধুর আর কইসনা, প্রত্যেকদিন রাত্রে কেউ একজন এই নাম্বার থেকে মেসেজ দেয় ।
কস্‌ কি ! থাই ম্যাসেজ নাকি ? রিয়াদের ফাজলামো ।
তোদেরকে বুঝছিস, কোন কথা বলাই অপরাধ । অদিতির অভিমান ।
বললাম ফোন দিয়ে দেখতো কেউ একজন ।
লাভ নাই । সারাদিন ফোন অফ্‌ থাকে, শুধুমাত্র মেসেজটা দেওয়ার জন্যই ফোনটা অন করে ওই বদমাশটা । অদিতি রাগ ঝাড়ল অচেনা কারো বিরুদ্ধে ।
কি লিখেরে ? মিথুনের প্রশ্ন ।
আরে কিসব হযবরল মার্কা কিছু টেক্সট। তবে বুঝছিস, আমার কিন্তু ভালই লাগে । অদ্ভুত ধরনের কথাবার্তা সব । অদিতির সরল স্বীকারোক্তি ।
তাইলে আর কি ? আমাদের অভিব্যাক্তি ।
……
………..
আরেকদিন
কিরে অদিতি, তোর মেসেজওয়ালার খবর কি ?
আরে আছে প্রতিদিন। মিস্‌ হয়না।
…………….
…………….
…………….
কদিন ধরেই ক্লাসে অদিতি নেই । কারো কলও রিসিভ করছেনা পাগলিটা । কাহিনী কি? সবাই মিলে হানা দিলাম অদিতির বাসায় ।
কিরে চেহারা সুরতের এই অবস্থা করছিস ক্যান ?
সমস্যা কি তোর ?
এই কদিন ক্লাসে আসিসনাই ক্যান ?

কদিন থেকে না, ওই মানুষটার কোন খবর নাই ।
কোন মানুষ ?
আরে ওই যে, তোদের মেসেজওয়ালা ।
ও…… তো সমস্যা কি?
জানিনা। আমার কিস্যু ভাল্লাগেনা আর।
ফোন করে দ্যাখছিস ?
হুম । কিন্তু নাম্বারটা অফ্‌ । মেসেজও দিসি । ডেলিভার হয়না।
কেমন যেন ম্রিয়মাণ আমাদের সেই সদাহাস্য অদিতি ।
মনটাই খারাপ হয়ে গেল আমাদের । যে যার বাসায় ফিরলাম।

রাত্রে শুতে যাওয়ার পর এক ধরণের খারাপ লাগা অনুভব করলাম। অপরিচিত কারো জন্য কেউ এমন করে ? করা কি উচিত?
মোবাইলের সিমটা চেঞ্জ করলাম। অনেকদিন হযবরল কিছু লিখিনা। অদিতির মন খারাপ হলে আমারও যে মন খারাপ হয় , সেটা কি অদিতি জানে ?